ব্যবসা কর বাড়ানোর উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়েছে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতে। ব্যয় সাশ্রয়ে দেশটির কোম্পানিগুলো নতুন কর্মী নিয়োগ কমিয়ে দিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এ পরিস্থিতি নতুন বছরের শুরুর আগেই করপোরেট খাতের আত্মবিশ্বাসে বড় ধাক্কা দিয়েছে। খবর ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস।
এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল ফ্ল্যাশ ইউকে পারচেজিং ম্যানেজার্সের কর্মসংস্থান সূচকের তথ্য বলছে, ডিসেম্বরে বেসরকারি খাতে কর্মসংস্থান ২০২১ সালের জানুয়ারির পর সবচেয়ে দ্রুতগতিতে কমেছে। করোনা মহামারী বাদ দিলে এটি ২০০৯ সালের পর সর্বনিম্ন। গত সোমবার প্রকাশিত সূচকটি ৪৫ দশমিক ৮-এ নেমে এসেছে, যা নভেম্বরে ৪৮ দশমিক ৯-এ অবস্থান করছিল। সূচকটির এমন অবস্থান কর্মসংস্থানে স্থিতিশীলতাকে নির্দেশ করে।
সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত বিভিন্ন পরিসংখ্যানেও নিয়োগে স্থবিরতা, করপোরেট আত্মবিশ্বাসের পতন ও টানা দুই মাস জিডিপি সংকোচনের চিত্র উঠে এসেছে। ব্রিটিশ অর্থমন্ত্রী র্যাচেল রিভস জাতীয় বীমা কর্মসূচির জন্য গত অক্টোবরের বাজেটে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর অতিরিক্ত ২ হাজার ৫০০ কোটি পাউন্ডের অতিরিক্ত করারোপ করেন। ব্যবসায়িক গোষ্ঠীগুলো বর্তমান পরিস্থিতির জন্য র্যাচেলের ওই পদক্ষেপকে দায়ী করেছেন।
ব্রিটিশ চেম্বারস অব কমার্সের (বিসিসি) পলিসি ডিরেক্টর অ্যালেক্স ভেইচ বলেন, ‘ক্রমবর্ধমান খরচের মধ্যে প্রবৃদ্ধি বজায় রাখা নিয়ে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো চিন্তিত। তারা খরচ সামাল দিতে চাচ্ছে, তবে এতে বিনিয়োগ কমানো, নিয়োগ বন্ধ করা ও কিছু ক্ষেত্রে কর্মী ছাঁটাই অনিবার্য হয়ে উঠেছে। এসব সিদ্ধান্ত তারা কখনই নিতে চায়নি।’
সরকারি ভাষ্যে বলা হয়েছে, র্যাচেল রিভসকে পাবলিক ফাইন্যান্স ও অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে কর বাড়ানোর মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল। চ্যান্সেলর স্পষ্ট করেছেন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারে কঠিন সিদ্ধান্ত প্রয়োজন ছিল।
সরকারি তথ্যানুযায়ী, সাম্প্রতিক মাসগুলোয় কর্মী ছাঁটাইয়ের প্রবণতা বাড়েনি এবং বেতনভুক্ত কর্মচারীর সংখ্যা সামান্যই কমেছে। তবে সোমবার প্রকাশিত পরিসংখ্যানে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের একটি জরিপের সঙ্গে মিল পাওয়া গেছে। এতে রিভসের বাজেটের কারণে বেশির ভাগ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থান কমার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।
ট্রেড গ্রুপ মেক ইউকের পৃথক একটি সূচকের তথ্য বলছে, বছরের শেষ তিন মাসে শিল্পোৎপাদকদের অর্থনীতির প্রতি আস্থা মহামারীর পর সবচেয়ে তীব্র হারে কমে গেছে।
ম্যানপাওয়ারগ্রুপ ইউকের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মাইকেল স্টুল বলেন, ‘অর্থনৈতিক নানামুখী চাপ একত্রিত হয়ে ব্যবসায়িক আত্মবিশ্বাসের ওপর বড় আঘাত করেছে। অথচ ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির জয়ের পর তাদের আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে ছিল। তাছাড়া সরকারের দিক থেকে আসা নেতিবাচক বার্তাও ভোক্তাদের আত্মবিশ্বাসে প্রভাব ফেলেছে। ফলে ব্যবসায়িক বিনিয়োগ স্থবির ও নিয়োগ বন্ধ হয়েছে।’
স্টুল বলেন, ‘জাতীয় বীমা কর্মসূচির কারণে ব্যয় বাড়ায় খরচ সামলাতে কোম্পানিগুলো দাম বা কাজের দক্ষতা বাড়ানোর মতো উপায় বেছে নিতে পারে। তবে সবচেয়ে দ্রুত খরচ কমানোর উপায় হলো নতুন কর্মী নিয়োগ বন্ধ করা বা নিয়োগ কমিয়ে দেয়া।’
বিসিসি জানায়, জাতীয় বীমা কর্মসূচির কারণে ব্যয় বেড়েছে এমন প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে এমন একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যাদের ব্যয় ৪ লাখ পাউন্ডের বেশি বেড়েছে। কোম্পানিটি কর্মী ছাঁটাইয়ের বিষয়ে ভাবছে।
যুক্তরাজ্যের একটি আতিথেয়তা কোম্পানি জানিয়েছে, ব্যয় বাড়ায় এটি বিনিয়োগ কমিয়েছে। পাশাপাশি ৭ লাখ পাউন্ড বাড়তি খরচের চাপ সামলাতে এটি ছাঁটাইয়ের কথা ভাবছে।